রামুতে অবৈধ অস্ত্রের তৎপরতা, পিস্তল-গুলিসহ যুবক আটক

কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়ায় বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিনসহ মো. রিদওয়ান (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গর্জনিয়া ইউনিয়নের বোমাংখীল বটতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিদওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বোমাংখীল এলাকার বাসিন্দা নুরুল আমিনের ছেলে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইউনুস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বোমাংখীল বটতলী এলাকার মারুফ মেম্বারের কার ওয়াশ সার্ভিসিংয়ের সামনে থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ রিদওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রামু থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, ঈদগড় ও কাউয়ারখোপ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তাঁদের ভাষ্য, চোরাকারবারকে কেন্দ্র করে এসব দলের অনেকের তৎপরতা গড়ে উঠেছে। প্রতিটি দলে পাঁচ থেকে ১০ জন সদস্য রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্যাংয়ের সংখ্যা তিন শতাধিক হতে পারে বলে তাঁদের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দলের অনেক সদস্যের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র রয়েছে। কয়েক দিন আগে কচ্ছপিয়ার ডাক্তারকাটা এলাকায় গুলিতে একজন আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা জানান।

সচেতন মহলের ভাষ্য, সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় প্রায়ই গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।

তাঁরা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সীমান্তবর্তী জনপদে নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান দাবি করেছেন।

এদিকে, রিদওয়ানের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধচক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ