ক্রিকেট নয়, দেশে ফেরাই এখন সাকিবের প্রধান স্বপ্ন

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বাইরে কাটছে সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসানের। মাঠের ব্যস্ততা নয়, এই মুহূর্তে তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নিজ দেশে ফেরা। প্রিয় মাতৃভূমির টান তাকে প্রতিনিয়ত টেনে নিচ্ছে, আর সেই আকাঙ্ক্ষাই যেন এখন তার প্রতিটি কথায় অনুভূত হচ্ছে।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তবে এই দূরত্ব তার জন্য মোটেও সহজ নয়। দেশের প্রতি গভীর টান অনুভব করছেন তিনি এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে ফিরতে চান।

সাকিব বলেন, তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই এখন তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই আইনি জটিলতার সমাধান। ক্রিকেটে ফেরার প্রসঙ্গ থাকলেও সেটিকে আপাতত দ্বিতীয় অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। তার মতে, আগে সব বাধা দূর হওয়া জরুরি, এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা বা অবসরের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে সাকিব জানান, মাঝে মাঝে আলোচনা হলেও বেশিরভাগ বিষয় তাকে নিজ উদ্যোগেই সামলাতে হচ্ছে। তার ধারণা, বোর্ড যদি সরাসরি আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতো, তাহলে হয়তো সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হতো।

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ স্থগিত হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনি মনে করেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রিকেটাররাই। ক্লাব ও বোর্ডের টানাপোড়েনে খেলোয়াড়দের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাকিবের মতে, এমন অস্থিরতা চলতে থাকলে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিও ব্যাহত হতে পারে। নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না থাকলে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি দুর্বল হয়ে পড়বে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের ওপরও পড়বে।

রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন সাকিব। তিনি বলেন, রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু একজন ক্রিকেটারের সময় খুব সীমিত। তাই এই মুহূর্তে তিনি পুরো মনোযোগ দিতে চান ক্রিকেটেই। তবে সুযোগ ও পরিবেশ অনুকূলে এলে ভবিষ্যতে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছার কথাও জানান বাংলাদেশের এই তারকা অলরাউন্ডার।

সর্বশেষ