চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সংঘটিত ডাবল মার্ডার বা জোড়া খুনের ঘটনা নগরীর অপরাধ জগতের ক্ষমতার লড়াইকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ড মূলত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী সরোয়ার হোসেন বাবলার মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের দ্বন্দ্বের পরিণতি। ২৯ মার্চ গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসী একটি প্রাইভেটকারকে ধাওয়া করে গুলি চালালে দুইজন নিহত এবং দুইজন আহত হন।
নিহতরা হলেন বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লাহ। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রবিন ও হৃদয়। ঘটনার দিন রাতে প্রাইভেটকারটি নগরীর রাজাখালী এলাকা থেকে বাকলিয়া এক্সেস রোড হয়ে চকবাজার থানার চন্দনপুরায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, মোটরসাইকেল আরোহী দুইজন বেলাল ও মানিক সরাসরি এই ঘটনায় জড়িত। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম ও ফটিকছড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ার হোসেন বাবলার মধ্যে চলমান বিবাদ। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই অপরাধী গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ চলে আসছিল। পুলিশের ধারণা, সরোয়ার ছোট সাজ্জাদকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, যার ফলে ছোট সাজ্জাদ প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল। সরোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসীরা প্রাইভেটকারে হামলা চালালেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
ঘটনার পর নিহত মানিকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্নাসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়। এতে অভিযোগ করা হয়, পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ছোট সাজ্জাদ চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।