অজ্ঞতা ও অসচেতনতা প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

নীরবে শরীরের ভেতরে জন্ম নিতে পারে এমন একটি রোগ যার কোনো তীব্র ব্যথা নেই, হঠাৎ করে জীবন থামিয়ে দেওয়ার মতো কোনো উপসর্গও অনেক সময় দেখা যায় না। প্রস্রাবের গতি কমে আসা, রাতে বারবার বাথরুমে যাওয়া বা বয়সজনিত ক্লান্তি এই পরিচিত সমস্যাগুলোর আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে প্রোস্টেট ক্যান্সারের মতো একটি গুরুতর অসুখ। বাংলাদেশে পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নিয়ে এখনো খোলাখুলি আলোচনা খুব কম অথচ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী দিনে এটি একটি বড় স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসতে পারে।

বিশ্বজুড়ে প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে এর নির্ভুল পরিসংখ্যান এখনও সীমিত হলেও সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অভিজ্ঞতা বলছে, গত এক দশকে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষ করে পঞ্চাশ বছরের পর পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রোস্টেট ক্যান্সারের একটি বড় সমস্যা হলো এর উপসর্গ অনেক সময় খুব সাধারণ মনে হয়। প্রস্রাব করতে কষ্ট, দুর্বল প্রবাহ, মূত্রথলিতে পুরোপুরি খালি না হওয়ার অনুভূতি এসব লক্ষণকে অনেকেই বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবে উপেক্ষা করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে প্রোস্টেট ক্যান্সার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং সঠিক চিকিৎসায় রোগীরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যেতে পারেন।

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এই রোগ মোকাবিলায় কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় এখনো প্রোস্টেট-সংক্রান্ত পরীক্ষা, যেমন পিএসএ টেস্ট বা বিশেষজ্ঞ ইউরোলজি পরামর্শ সহজলভ্য নয়। ফলে রোগীরা দেরিতে বড় শহরে আসেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব বাড়িয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং রেফারেল ব্যবস্থা জোরদারের চেষ্টা চলছে। যদিও এই উদ্যোগগুলো এখনও পুরোপুরি বিস্তৃত হয়নি, তবু এটি একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ অবস্থায় বেসরকারি স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। চট্টগ্রামে অবস্থিত এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম প্রোস্টেট ক্যান্সারসহ জটিল পুরুষ রোগের আধুনিক ও বিশ্বমানের চিকিৎসায় একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছে। এখানে অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্ট ও অনকোলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও ফলো-আপ পর্যন্ত সমন্বিত সেবা দেওয়া হয়। অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা প্রটোকল এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে হাসপাতালটি চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের রোগীদের জন্য বিদেশমুখী হওয়ার চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

প্রোস্টেট ক্যান্সার এখন বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের নীরব কিন্তু ক্রমবর্ধমান এক বাস্তবতা। সময়মতো সচেতনতা, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন আগামী দিনে এই রোগের চিত্র বদলে দিতে পারে।

লেখক : এমবিবিএস, এমডি (অনকোলজি), এটেন্ডিং কনসালটেন্ট, মেডিকেল এন্ড রেডিয়েশন অনকোলজি, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম।

সর্বশেষ