চট্টগ্রামে বৃষ্টিস্নাত এক সন্ধ্যায় কবিতার আবেশে মুগ্ধ হলো আবৃত্তিপ্রেমীরা। বাইরে বৈশাখের অঝোর ধারা, আর ভেতরে কণ্ঠের মেঘমল্লারে মুখর ছিল পুরো মিলনায়তন। ‘চির-অবনত তুলিয়াছে আজ গগনে উচ্চ শির’ শিরোনামে আবৃত্তিযোগের অভিনব নিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীতে।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউটের আর্ট গ্যালারি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ছয় তরুণ আবৃত্তিশিল্পী দেশ-বিদেশের কবিদের কবিতা পরিবেশন করেন। প্রেম, দ্রোহ, প্রকৃতি ও মানবতার নানা দিক তাদের কণ্ঠে জীবন্ত হয়ে ওঠে, যা দর্শকদের টানা প্রায় দেড়ঘণ্টা নিস্তব্ধ মুগ্ধতায় আবদ্ধ রাখে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বয়ান শিল্পাঙ্গনের সদস্য রচয়িতা দেবী ঐশী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন মুক্তাক্ষরের হিমেল মাহমুদ, নির্মাণ আবৃত্তি অঙ্গনের অর্ণব বড়ুয়া ও পুষ্পা সর্ববিদ্যা, কণ্ঠনীড় বাচিক শিল্পচর্চা কেন্দ্রের তাজুল ইসলাম এবং শব্দনোঙর আবৃত্তি সংগঠনের সায়েম উদ্দীন ও সাবিহা আক্তার।
আবৃত্তি শেষে ‘কথামালা’ পর্বে শিল্পীদের পরিবেশনার বিশ্লেষণ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও নাট্যজন শুভ্রা বিশ্বাস বলেন, ‘আজকের আবৃত্তিশিল্পীদের কণ্ঠে যে স্বাভাবিকতা, দৃঢ়তা ও মমতা দেখলাম, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত। বাচিক শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়াই যায়।’
বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের আশাহত সময় থেকে আশাবাদের দিকে নিয়ে যায়।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী মাহবুবুর রহমান মাহফুজ ও প্রবীর পাল। অতিথিরা শিল্পীদের উচ্চারণ, স্বরপ্রক্ষেপণ ও কবিতার ভাবানুভূতির প্রশংসা করেন এবং এমন ধারাবাহিক আয়োজন শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চাকে আরও এগিয়ে নেবে বলে মত দেন।
আয়োজক সংগঠন আবৃত্তিযোগ জানায়, অন্ধকারচ্ছন্ন সমাজে আলোর পরিসর বাড়ানো এবং শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নেওয়াই তাদের এই ধারাবাহিক আয়োজনের মূল লক্ষ্য।









