উচ্ছ্বাসের বদলে কোথাও হতাশা, কোথাও দীর্ঘশ্বাস। উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন লাখো শিক্ষার্থী। কিন্তু ফল প্রকাশের পর সামনে এলো ভিন্ন চিত্র। প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থীই পারেননি উত্তীর্ণ হতে।
গত ২২ বছরের মধ্যে এবারই এইচএসসিতে সবচেয়ে কম পাসের হার। দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এমন নিম্নমুখী ফল দেখেনি উচ্চমাধ্যমিক। ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ শতাংশের বেশি। এরপর ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো বছরই পাসের হার ৬০ শতাংশের নিচে নামেনি। ২০২৫ সালে ফল বিপর্যয় হয়ে ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার আরও কমে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশে ঠেকেছে। কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
ফল বিপর্যয়ের পেছনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে ফেল। এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৭০ শতাংশে পৌঁছায়নি। আইসিটিতেও চিত্র স্বস্তিদায়ক নয়। সব বোর্ডেই এ বিষয়ে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। তবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ঘাটতি, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং প্রশ্নপত্রের ধরন— সবই বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমরা বেশিরভাগ সময় পড়াশোনা করি না। বরং এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করে সময় কাটাই। আমরা যদি এভাবে সময় নষ্ট না করে নিয়মিত পড়ার টেবিলে বসি এবং বিভিন্ন পর্যায়ে স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টারে পড়াশোনার চর্চা অব্যাহত রাখি, তাহলে আমাদের দেশের পাশাপাশি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডেও পাসের হার বাড়বে।’
অন্যদিকে শিক্ষকেরা বলেন, ‘একসময় ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া হয়েছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছিল যে, পড়াশোনা না করেও কিংবা পরীক্ষা না দিয়েও পাস করা যায়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া সেই প্রবণতা কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে। পরবর্তী সময়ে যখন খাতাগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তখন দেখা গেছে পাসের হার আরও কমে গেছে।’
এত বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় এবার এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের আবারও পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছে মন্ত্রণালয়। আগামী ০২ জানুয়ারির আগেই ফল প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের নিজ ব্যাচের সঙ্গেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছিলেন, ‘যারা দুই বিষয়ে ফেল করেছে, তারা কঠোর প্রস্তুতি নিলে তারাও উত্তীর্ণ হতে পারবে।’
সাময়িকভাবে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ কিছু শিক্ষার্থীর জন্য স্বস্তি নিয়ে এলেও, সামগ্রিক ফল বিপর্যয়ের সমাধান এটি নয় বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে শিক্ষাবিদ মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘যারা নিয়মিত পরীক্ষায় পাস করেছে, তাদের সঙ্গে এক বা দুই বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে পাস করা শিক্ষার্থীরাও পরবর্তী সময়ে একইভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। এটি এক ধরনের বৈষম্য।’
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।









